মুহম্মদ জাফর ইকবাল
"মুহাম্মদ জাফর ইকবাল বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় লেখক, শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানচিন্তক ও কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যিক। তিনি বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানভিত্তিক কল্পকাহিনি ও কিশোর সাহিত্যকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। একই সঙ্গে তিনি একজন অধ্যাপক হিসেবে বিজ্ঞানশিক্ষা ও প্রযুক্তিচর্চাকে জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা গড়ে তুলতে তাঁর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁর লেখায় বিজ্ঞান, মানবতা, কল্পনা ও দেশপ্রেম একসঙ্গে মিলিত হয়েছে।"
একনজরে
- জন্ম
- ২৩ ডিসেম্বর ১৯৫২ (বয়স ৭৩) সিলেট, বাংলাদেশ
- পেশা
- লেখক, পদার্থবিদ ও শিক্ষাবিদ
- জাতীয়তা
- বাংলাদেশি
- নাগরিকত্ব
- বাংলাদেশি
- উল্লেখযোগ্য পুরস্কার
- বাংলা একাডেমি পুরস্কার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার
- দাম্পত্যসঙ্গী
- ড. ইয়াসমীন হক
- সন্তান
- নাবিল ইকবাল (পুত্র) ইয়েশিম ইকবাল (কন্যা)
format_list_bulleted সূচিপত্র expand_more
পরিচয়
মুহম্মদ জাফর ইকবাল বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় লেখক, শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানচিন্তক ও কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যিক। তিনি বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানভিত্তিক কল্পকাহিনি ও কিশোর সাহিত্যকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। একই সঙ্গে তিনি একজন অধ্যাপক হিসেবে বিজ্ঞানশিক্ষা ও প্রযুক্তিচর্চাকে জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা গড়ে তুলতে তাঁর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁর লেখায় বিজ্ঞান, মানবতা, কল্পনা ও দেশপ্রেম একসঙ্গে মিলিত হয়েছে।
জন্ম ও পারিবারিক পরিচয়
মুহম্মদ জাফর ইকবাল ১৯৫২ সালের ২৩ ডিসেম্বর সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ফয়জুর রহমান আহমেদ ছিলেন একজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে নিহত হন। তাঁর মাতা আয়েশা আখতার খাতুন।
তিনি বিখ্যাত সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ-এর ছোট ভাই এবং লেখক ও কার্টুনিস্ট আহসান হাবীব তাঁর আরেক ভাই।
পরিবারের সাহিত্য ও সংস্কৃতিমনস্ক পরিবেশ তাঁর মানসিক গঠনে গভীর প্রভাব ফেলে। [ref].
শিক্ষাজীবন
তিনি বগুড়া জেলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরে ঢাকা কলেজে পড়াশোনা করেন।
এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটন থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল পদার্থবিজ্ঞান ও কম্পিউটার প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট। [ref].
শিক্ষকতা ও গবেষণা
পিএইচডি সম্পন্ন করার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতেও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে দেশে ফিরে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এ কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞানশিক্ষা আধুনিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীলতা, প্রযুক্তি ও গবেষণার আগ্রহ তৈরিতে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন। [ref].
সাহিত্যজীবনের শুরু
মুহাম্মদ জাফর ইকবাল মূলত কিশোর সাহিত্য ও বিজ্ঞান কল্পকাহিনির মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তাঁর লেখার ভাষা সহজ, প্রাণবন্ত ও কল্পনাময়।
বাংলা সাহিত্যে তিনি বিজ্ঞান কল্পকাহিনিকে সাধারণ পাঠকের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছেন। তাঁর গল্পে রোবট, মহাকাশ, ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মানবিক মূল্যবোধ একসঙ্গে উঠে আসে।
শিশু-কিশোরদের জন্য বিজ্ঞানকে আনন্দময় করে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে প্রশংসিত। [ref].
উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ
মুহাম্মদ জাফর ইকবালের জনপ্রিয় বইগুলোর মধ্যে রয়েছে—
কল্পবিজ্ঞান
- কপোট্রনিক সুখ দুঃখ
- আমার বন্ধু রাশেদ
- দীপু নাম্বার টু
- ইকারাস
- নিউরনে অনুরণন
- অবনীল
কিশোর উপন্যাস
- দস্যি কয়জন
- আমার বন্ধু রাশেদ
- দীপু নাম্বার টু
বিজ্ঞানবিষয়ক বই
- শূন্য
- গণিত এবং আরো গণিত
- বিজ্ঞানী সফদার আলীর মহা মহা আবিষ্কার
“আমার বন্ধু রাশেদ”
তাঁর অন্যতম জনপ্রিয় উপন্যাস আমার বন্ধু রাশেদ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কিশোর উপন্যাস। এতে বন্ধুত্ব, দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের আবেগময় চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
বইটি কিশোরদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং পরে এটি চলচ্চিত্রে রূপায়িত হয়।
বিজ্ঞানমনস্কতা ও সমাজচিন্তা
মুহাম্মদ জাফর ইকবাল সবসময় বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গঠনের পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি কুসংস্কার, জঙ্গিবাদ ও অন্ধবিশ্বাসের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন।
তিনি গণিত অলিম্পিয়াড আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন এবং তরুণদের প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহী করতে বিভিন্ন উদ্যোগে অংশ নেন।
হামলার ঘটনা
২০১৮ সালে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অনুষ্ঠানের সময় তাঁর ওপর হামলা হয়। তিনি আহত হলেও পরে সুস্থ হয়ে ওঠেন। এই ঘটনা দেশে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। [ref].
পুরস্কার ও সম্মাননা
সাহিত্য ও শিক্ষায় অবদানের জন্য তিনি বহু পুরস্কার পেয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
- বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার
- শ্রেষ্ঠ নাট্যকার পুরস্কার
- একাধিক শিশু সাহিত্য সম্মাননা
ব্যক্তিত্ব ও প্রভাব
মুহম্মদ জাফর ইকবাল অত্যন্ত সহজ-সরল ও প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্বের মানুষ হিসেবে পরিচিত। তরুণদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বন্ধুসুলভ।
বাংলাদেশের বহু তরুণ তাঁর বই পড়ে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সাহিত্যচর্চার প্রতি আগ্রহী হয়েছে। তিনি শুধু একজন লেখক নন; নতুন প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক।