Bio.bd Logo
বেগম রোকেয়া
edit_note লেখক

বেগম রোকেয়া

edit_calendar 10 May, 2026 update আপডেট: 21 Jun, 2026 visibility 56

একনজরে

জন্ম
রোকেয়া খাতুন ৯ ডিসেম্বর ১৮৮০
মারা গেছেন
৯ ডিসেম্বর ১৯৩২ (বয়স ৫২)
বিশ্রামস্থল
কলকাতা , পশ্চিমবঙ্গ, ভারত
পেশা
লেখিকা, নারীবাদী চিন্তাবিদ, শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মী
স্বামী
খান বাহাদুর সাখাওয়াত হোসেন
format_list_bulleted সূচিপত্র expand_more

পরিচয়

বেগম রোকেয়া ছিলেন বাঙালি মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত, সমাজ সংস্কারক, শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক। তিনি এমন এক সময়ে নারীদের শিক্ষা ও অধিকার নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন, যখন সমাজে মেয়েদের শিক্ষাকে ভালো চোখে দেখা হতো না। নিজের লেখনী ও সমাজসেবামূলক কাজের মাধ্যমে তিনি নারীদের সচেতনতা, শিক্ষা ও স্বাধীনতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। বাংলা সাহিত্যে এবং নারী আন্দোলনের ইতিহাসে তাঁর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।[ref] .

জন্ম ও পারিবারিক পরিচয়

বেগম রোকেয়ার পূর্ণ নাম ছিল রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। তিনি ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন জহীরুদ্দিন মোহাম্মদ আবু আলী হায়দার সাবের এবং মাতা রাহাতুন্নেসা সাবেরা চৌধুরানী। তাঁদের পরিবার ছিল সম্ভ্রান্ত ও ধর্মীয় রক্ষণশীল পরিবার।

সে সময় মুসলিম সমাজে মেয়েদের বাইরে গিয়ে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ খুবই সীমিত ছিল। তাই ছোটবেলায় বেগম রোকেয়া প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ পাননি। [ref].

শৈশব ও শিক্ষাজীবন

বেগম রোকেয়া ছোটবেলা থেকেই জ্ঞান অর্জনের প্রতি আগ্রহী ছিলেন। তাঁর বড় ভাই ইব্রাহিম সাবের ও বড় বোন করিমুন্নেসা তাঁকে বাংলা ও ইংরেজি শেখার জন্য উৎসাহ দেন। পরিবারের কঠোর নিয়মের মধ্যেও তিনি গোপনে বাংলা ও ইংরেজি ভাষা শিখেছিলেন।

পরবর্তীতে তিনি বাংলা, উর্দু, ফারসি ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন। নিজ প্রচেষ্টায় শিক্ষিত হয়ে তিনি সমাজে শিক্ষার আলো ছড়ানোর কাজে আত্মনিয়োগ করেন।

বিবাহিত জীবন

মাত্র ষোল বছর বয়সে তাঁর বিয়ে হয় সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে। তাঁর স্বামী ছিলেন শিক্ষিত ও উদারমনা ব্যক্তি। তিনি বেগম রোকেয়াকে লেখালেখি ও শিক্ষার কাজে উৎসাহিত করতেন। স্বামীর সহযোগিতায় রোকেয়া নারীশিক্ষা বিস্তারের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন।

স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি আরও দৃঢ়ভাবে নারীশিক্ষা ও সমাজ সংস্কারের কাজে যুক্ত হন।[ref] .

নারী শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারে অবদান

বেগম রোকেয়া বিশ্বাস করতেন, শিক্ষা ছাড়া নারীর মুক্তি সম্ভব নয়। সে সময় নারীরা নানা কুসংস্কার ও সামাজিক বাধার মধ্যে বন্দি ছিল। তিনি এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে লেখালেখি ও আন্দোলন শুরু করেন।

১৯১১ সালে তিনি কলকাতায় “সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল” প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতে মাত্র কয়েকজন ছাত্রী নিয়ে বিদ্যালয়টির কার্যক্রম শুরু হলেও পরে এটি নারীশিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।

তিনি নারীদের আত্মনির্ভরশীল ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করেন। [ref].

সাহিত্যকর্ম

বেগম রোকেয়া ছিলেন শক্তিশালী লেখক ও প্রাবন্ধিক। তাঁর লেখায় নারী অধিকার, শিক্ষা, সমাজের কুসংস্কার ও বৈষম্যের বিষয়গুলো উঠে এসেছে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলোঃ

  • “মতিচূর”
  • “সুলতানার স্বপ্ন”
  • “পদ্মরাগ”
  • “অবরোধবাসিনী”

“সুলতানার স্বপ্ন” গ্রন্থে তিনি এমন একটি সমাজের কল্পনা করেন, যেখানে নারীরা শিক্ষিত, স্বাধীন ও নেতৃত্বের আসনে প্রতিষ্ঠিত।

সংগঠন ও সমাজসেবা

বেগম রোকেয়া নারীদের কল্যাণে বিভিন্ন সংগঠন গঠন করেন। তিনি দরিদ্র ও অসহায় নারীদের সহায়তা করতেন এবং তাদের শিক্ষার সুযোগ তৈরিতে কাজ করতেন।

১৯১৬ সালে তিনি মুসলিম নারীদের উন্নয়নের জন্য একটি মহিলা সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন। এই সংগঠনের মাধ্যমে নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করা হতো।[ref].

মৃত্যু

১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর কলকাতায় বেগম রোকেয়া মৃত্যুবরণ করেন। কাকতালীয়ভাবে তাঁর জন্ম ও মৃত্যু একই দিনে হয়েছিল।

তাঁর অবদান স্মরণে প্রতি বছর ৯ ডিসেম্বর “রোকেয়া দিবস” পালন করা হয়।

ইতিহাসে গুরুত্ব

বেগম রোকেয়া নারী শিক্ষা ও নারী অধিকারের আন্দোলনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন। তিনি সমাজের প্রচলিত কুসংস্কার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে কলম ধরেছিলেন।

বাংলাদেশ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি নারী জাগরণের প্রতীক হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। [ref].

উপসংহার

বেগম রোকেয়া ছিলেন একজন সাহসী, দূরদর্শী ও মানবতাবাদী নারী। তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে শিক্ষা মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি। নারী সমাজের উন্নয়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁর অবদান আজও অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁর জীবন আমাদের জ্ঞানচর্চা, সচেতনতা ও মানবকল্যাণের শিক্ষা দেয়।

জীবনীটি শেয়ার করুন

এই অনুপ্রেরণামূলক গল্পটি অন্যদের সাথে ছড়িয়ে দিন।

Facebook WhatsApp