মুহম্মদ কুদরাত-এ-খুদা
"মুহম্মদ কুদরাত-এ-খুদা ছিলেন বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও শিক্ষা অঙ্গনের এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব। ১৯০০ সালে জন্ম নেওয়া এই খ্যাতিমান জৈব রসায়নবিদ স্বাধীনতার পর দেশে বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি শুধু একজন বিজ্ঞানীই নন, বরং শিক্ষাবিদ, লেখক ও চিন্তাবিদ হিসেবেও সমানভাবে সম্মানিত ছিলেন। দূরদর্শী নেতৃত্ব ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের প্রচেষ্টার কারণে তাঁকে বাংলাদেশের বৈজ্ঞানিক জাগরণের অন্যতম প্রধান রূপকার হিসেবে স্মরণ করা হয়।"
একনজরে
- জন্ম
- ১ মে ১৯০০
- জন্মস্থান
- মার্গ্রাম গ্রাম, বীরভূম, বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত
- মৃত্যু
- ৩ নভেম্বর ১৯৭৭
- পিতা
- সৈয়দ শাহ আব্দুল মুকিদ
- নাগরিকত্ব
- ব্রিটিশ ভারতীয় → পাকিস্তানি → বাংলাদেশি
- শিক্ষা
- মাধ্যমিক: মার্গ্রাম ME হাই স্কুল → কলকাতা আলিয়া মাদরাসা (১৯১৮, প্রথম বিভাগ) / স্নাতকোত্তর: MSC (রসায়ন), প্রেসিডেন্সি কলেজ, কলকাতা (১৯২৪) — প্রথম শ্রেণিতে প্রথম + স্বর্ণপদক / ডক্টরেট: DSC, লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় (১৯২৯) + DIC, Imperial College / গবেষণা: Stainless Configuration of Multiplanmet Ring
- গুরুত্বপূর্ণ পদ ও দায়িত্ব
- ১৯৩১–৩৬ প্রভাষক → বিভাগীয় প্রধান, রসায়ন, প্রেসিডেন্সি কলেজ ১৯৪২–৪৪ অধ্যক্ষ, ইসলামিয়া কলেজ, কলকাতা ১৯৪৭–৪৯ পরিচালক, পূর্ব পাকিস্তান গণশিক্ষা বিভাগ ১৯৪৯–৫৩ বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা, পাকিস্তান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ১৯৫৩–৫৫ চেয়ারম্যান, মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, পূর্ব পাকিস্তান ১৯৫৫–৬৬ প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, PCSIR পূর্বাঞ্চলীয় গবেষণাগার (বর্তমান BCSIR) ১৯৬৪–৬৫ সভাপতি, বাংলা একাডেমি ১৯৬৬–৬৮ চেয়ারম্যান, কেন্দ্রীয় বাংলা উন্নয়ন বোর্ড ১৯৬৯–৭২ সভাপতি, পাকিস্তান বিজ্ঞান একাডেমি ১৯৭২–৭৪ চেয়ারম্যান, জাতীয় শিক্ষা কমিশন, বাংলাদেশ ১৯৭৫–৭৭ ভিজিটিং অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
- পুরস্কার ও সম্মাননা
- একুশে পদক ১৯৭৬ (শিক্ষা) / স্বাধীনতা পুরস্কার ১৯৮৬ (মরণোত্তর — বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি) / প্রেমচাঁদ রায়চাঁদ বৃত্তি (কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়) / স্বর্ণপদক — MSc (১৯২৪) / BCSIR-এ বার্ষিক ড. কুদরাত-এ-খুদা পুরস্কার (১৯৭৮ থেকে) / বাংলাদেশ ডাক বিভাগের স্মারক ডাকটিকিট (২০২১)
format_list_bulleted সূচিপত্র expand_more
জন্ম ও পারিবারিক পরিচয়
ড. মুহম্মদ কুদরাত-এ-খুদা ১৯০০ সালের মে মাসে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার মার্গ্রাম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা সৈয়দ শাহ আব্দুল মুকিদ ছিলেন সমাজের একজন শ্রদ্ধেয় ধর্মীয় নেতা এবং একই সঙ্গে একজন স্নাতক ডিগ্রিধারী শিক্ষিত মানুষ। পিতার এই দ্বৈত পরিচয় ধর্মীয় জ্ঞান ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয় — তরুণ কুদরাত-এ-খুদার মধ্যে বিজ্ঞান ও মানবতার প্রতি গভীর আগ্রহ জাগিয়ে তোলে। শৈশবে তিনি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের মধ্যে বেড়ে উঠেছিলেন, যখন বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি ছিল মূলত আমদানিনির্ভর। তখন থেকেই তিনি স্বপ্ন দেখতেন এমন একটি বাংলার, যেখানে নিজস্ব জ্ঞান উৎপাদিত হবে — বিদেশমুখিতার বদলে গড়ে উঠবে আত্মনির্ভরতা।[ref]
শিক্ষাজীবন — মেধার অসাধারণ যাত্রা
কুদরাত-এ-খুদা প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন মার্গ্রাম ME হাই স্কুল এবং কলকাতার উডবার্ন ME স্কুলে। ১৯১৮ সালে কলকাতা আলিয়া মাদরাসা থেকে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯২৪ সালে তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে রসায়নে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করে MSc ডিগ্রি লাভ করেন এবং অসাধারণ ফলাফলের জন্য স্বর্ণপদক পান। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়নে উচ্চতর গবেষণার জন্য তিনি মর্যাদাপূর্ণ প্রেমচাঁদ রায়চাঁদ বৃত্তি লাভ করেন। উচ্চতর গবেষণার জন্য তিনি লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজ অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে যোগ দেন এবং ১৯২৯ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে "Stainless Configuration of Multiplanmet Ring" শীর্ষক গবেষণার জন্য DSc ডিগ্রি এবং ইম্পেরিয়াল কলেজের DIC সম্মান অর্জন করেন।[ref]
কর্মজীবনের সূচনা — প্রেসিডেন্সি থেকে ইসলামিয়া
লন্ডন থেকে ফিরে ১৯৩১ সালে তিনি প্রেসিডেন্সি কলেজে রসায়ন বিভাগে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এবং ১৯৩৬ সালে বিভাগীয় প্রধান পদে উন্নীত হন। ১৯৪২ থেকে ১৯৪৪ সাল পর্যন্ত তিনি কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে (বর্তমান মৌলানা আজাদ কলেজ) অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪৬ সালে পুনরায় প্রেসিডেন্সি কলেজে ফিরে সেখানকার অধ্যক্ষ হন এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো ও সিনেট সদস্য হিসেবেও কাজ করেন।[ref]
দেশভাগ ও পূর্ব পাকিস্তানে পদার্পণ (১৯৪৭)
১৯৪৭ সালে ভারত বিভাজনের পর কুদরাত-এ-খুদা পূর্ব পাকিস্তানে চলে আসেন এবং পূর্ব পাকিস্তান সরকারের প্রথম গণশিক্ষা পরিচালক হিসেবে ১৯৪৭ থেকে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে তিনি সরকারি বিদ্যালয়ে উর্দু ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার বিরোধিতা করেন — বাংলা ভাষার প্রতি তাঁর দৃঢ় অবস্থানের এটি একটি প্রারম্ভিক নজির। ১৯৪৯ সালে তিনি পাকিস্তান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা নিযুক্ত হন এবং ১৯৪৯ ও ১৯৫১ সালে প্যারিসে UNESCO সাধারণ সম্মেলনে, ১৯৫২ সালে অস্ট্রেলিয়ায় ব্রিটিশ কমনওয়েলথ বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে এবং ১৯৫৩ সালে নয়াদিল্লিতে কমনওয়েলথ প্রতিরক্ষা বিজ্ঞান সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করেন।
BCSIR প্রতিষ্ঠা — বাংলাদেশের বিজ্ঞানের ভিত্তি
১৯৫৫ সালের জানুয়ারিতে কুদরাত-এ-খুদা ঢাকার তেজগাঁও পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের প্রাঙ্গণে PCSIR-এর পূর্বাঞ্চলীয় গবেষণাগার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন এবং প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসেবে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এই প্রতিষ্ঠানটিই পরবর্তীতে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (BCSIR) নামে পরিচিত হয়। স্বাধীনতার পর BCSIR-এর চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি অনুকরণমূলক গবেষণা থেকে সরে এসে স্থানীয় সম্পদভিত্তিক মৌলিক গবেষণায় মনোযোগ দেয় — খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, ফার্মাসিউটিক্যালস, কৃষি ও রাসায়নিক প্রকৌশল।[ref]
বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও আবিষ্কার
কুদরাত-এ-খুদার বিশেষজ্ঞতা ছিল জৈব রসায়নে। তিনি ভেষজ উদ্ভিদ, পাট, লবণ, কয়লা, মাটি ও খনিজ পদার্থ নিয়ে গবেষণা পরিচালনা করেন। তিনি স্থানীয় গাছ ও উদ্ভিদ থেকে জৈব রাসায়নিক উপাদান সংগ্রহ করে ওষুধ হিসেবে ব্যবহারের সফল পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। তিনি ও তাঁর সহযোগীরা মিলে মোট ১৮টি বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের পেটেন্ট নিবন্ধন করেন। পাটকাঠি থেকে পার্টেক্স তৈরি ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় বৈজ্ঞানিক অর্জন। পাটের রাসায়নিক গঠন বিশ্লেষণ করে তিনি পাটবর্জ্য থেকে দরকারি উপাদান তৈরির পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন, যা পরবর্তীতে পাটভিত্তিক শিল্পের ভিত্তি হয়। এছাড়া আখের রস ও গুড় থেকে মল্ট ভিনেগার, পাট ও পাটকাঠি থেকে রেয়ন এবং পাট থেকে কাগজ তৈরিও ছিল তাঁর উল্লেখযোগ্য বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন।
বাংলা একাডেমি, ভাষা আন্দোলন ও বিজ্ঞানের বাংলায়ন
১৯৬৪–৬৫ সালে তিনি বাংলা একাডেমির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বাংলা উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। কুদরাত-এ-খুদা বিজ্ঞানচর্চায় বাংলা ভাষার প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন। তাঁর মতে, বিজ্ঞান শুধু ইংরেজি বা বিশেষ সুবিধাভোগীদের জন্য নয় এটি সকলের। বাংলায় বিজ্ঞান লেখা ও শেখানোর তাঁর সিদ্ধান্ত ছিল একটি সাংস্কৃতিক মুক্তির কাজ।
পাকিস্তান বিজ্ঞান একাডেমিতে নেতৃত্ব
১৯৬৯ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত তিনি পাকিস্তান বিজ্ঞান একাডেমির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা ফেলো ছিলেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেরও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।
কুদরাত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশন (১৯৭২–৭৪) — ঐতিহাসিক সংস্কার
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৬ জুলাই নবগঠিত সরকার একটি জাতীয় শিক্ষা কমিশন গঠন করে এবং কুদরাত-এ-খুদাকে এর চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয়। কমিশন একমাস ভারত সফর করে। দীর্ঘ বিশ্লেষণ ও সংশ্লেষণের পর ১৯৭৩ সালের ৮ জুন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে ৪৫০ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। এই প্রতিবেদনটি ইতিহাসে "কুদরাত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট" নামে পরিচিত এবং এটিই ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার প্রথম পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা।
রচনাবলি — বিজ্ঞানকে বাংলায় রূপ দেওয়া
কুদরাত-এ-খুদা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক বহু গ্রন্থ বাংলায় রচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: বিজ্ঞানের সরস কাহিনী, বিজ্ঞানের বিচিত্র কাহিনী, বিজ্ঞানের সূচনা, জৈব রসায়ন (চার খণ্ডে), পূর্ব পাকিস্তানের শিল্প সম্ভাবনা, পরমাণু পরিচিতি এবং বিজ্ঞানের পহেলা কথা। তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় দুটি বাংলা বিজ্ঞান পত্রিকা প্রকাশিত হয় — ১৯৬৩ সালে পুরোগামী বিজ্ঞান এবং ১৯৭২ সালে বিজ্ঞানের জয়যাত্রা। এছাড়া পবিত্র কোরআনের পুঁথি কথা ও অঙ্গারি জাওয়ারা শীর্ষক একটি ধর্মীয় গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন।
পুরস্কার ও স্বীকৃতি
১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একুশে পদক প্রদান করে। ১৯৮৬ সালে মরণোত্তরভাবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে অবদানের জন্য তাঁকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয়। ১৯৭৮ সাল থেকে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (BCSIR) তাঁর নামে বার্ষিক ড. কুদরাত-এ-খুদা পুরস্কার প্রদান করে আসছে। ঢাকার ধানমন্ডিতে BCSIR গবেষণাগারের সামনের সড়কটি "ড. কুদরাত-এ-খুদা রোড" নামে নামকরণ করা হয়েছে। ২০২১ সালের ২৭ জুন বাংলাদেশ ডাক বিভাগ তাঁর সম্মানে ১০ টাকার স্মারক ডাকটিকিট ও খাম প্রকাশ করে, যার মুদ্রণ সংখ্যা ছিল ৫০,০০০।[ref]
মৃত্যু ও উত্তরাধিকার
১৯৭৫ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়নের ভিজিটিং অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৭ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। আজও বাংলাদেশের প্রতিটি বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানে — BCSIR থেকে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত তাঁর দূরদৃষ্টির ছাপ রয়েছে। স্থানীয় সমস্যা সমাধান, যুক্তিভিত্তিক অনুসন্ধান এবং ভাষাগত অন্তর্ভুক্তির যে মডেল তিনি তৈরি করেছিলেন, তা আজও জাতীয় অগ্রাধিকার নির্ধারণে পথ দেখায়।[ref]