Bio.bd Logo
সাকিব আল হাসান
sports_cricket ক্রিকেটার

সাকিব আল হাসান

"সাকিব আল হাসান বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম উজ্জ্বল নাম। ১৯৮৭ সালের ২৪ মার্চ জন্ম নেওয়া এই তারকা অলরাউন্ডার তাঁর দুর্দান্ত বাঁহাতি ব্যাটিং ও কার্যকর বাঁহাতি স্পিন বোলিংয়ের মাধ্যমে বিশ্ব ক্রিকেটে বিশেষ পরিচিতি অর্জন করেছেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৪ হাজারের বেশি রান এবং ৭ শতাধিক উইকেট সংগ্রহ করে নিজেকে বাংলাদেশের অন্যতম সফল ক্রিকেটার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ও ম্যাচজয়ী অবদানের কারণে অনেকেই তাকে বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার হিসেবে বিবেচনা করেন।"

edit_calendar 07 May, 2026 update আপডেট: 22 Jun, 2026 visibility 30

একনজরে

জন্ম
২৪ মার্চ ১৯৮৭
জন্মস্থান
মাগুরা, বাংলাদেশ
পিতা / মাতা
খন্দকার মাসরুর রেজা / শিরিন রেজা
স্ত্রী
উম্মে আহমেদ শিশির
সন্তান
তিন কন্যা
শিক্ষা
মাধ্যমিক: বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (BKSP) / স্নাতক: BBA, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (AIUB)
ভূমিকা
অলরাউন্ডার
ব্যাটিং / বোলিং
বাঁহাতি
টেস্ট অভিষেক
২০০৭ বনাম ভারত
ODI অভিষেক
২০০৬ বনাম জিম্বাবুয়ে
T20I অভিষেক
২০০৬
মোট রান
১৪,০০০+
মোট উইকেট
৭০০+
উল্লেখযোগ্য অর্জন
ICC #১ অলরাউন্ডার (তিন ফরম্যাটে একই সময়ে) / ICC ODI Player of the Year ২০১৫ / IPL শিরোপা ২০১২ ও ২০১৪ (KKR) / T20 বিশ্বকাপ সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী / T20 ক্রিকেটে ৫০০+ উইকেট (২০২৫) /ম্যান অব দ্য ম্যাচ ৪১টি (বাংলাদেশ রেকর্ড) / BPL শিরোপা ২০১২, ২০১৩, ২০১৬
format_list_bulleted সূচিপত্র expand_more

জন্ম ও পারিবারিক পরিচয়

সাকিব আল হাসান ১৯৮৭ সালের ২৪ মার্চ মাগুরা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম খন্দকার মাসরুর রেজা এবং মায়ের নাম শিরিন রেজা। ২০১২ সালের ১২ ডিসেম্বর তিনি বাংলাদেশি-আমেরিকান উম্মে আহমেদ শিশিরকে বিবাহ করেন। তাঁদের তিন কন্যাসন্তান রয়েছে।[ref]

শিক্ষাজীবন ও ক্রিকেটে হাতেখড়ি

সাকিব মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (BKSP) থেকে এবং আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (AIUB) থেকে BBA ডিগ্রি অর্জন করেন। ছোটবেলায় গ্রামের মাঠে টেপ করা টেনিস বল দিয়ে ক্রিকেট খেলতেন। তিনি BKSP-তে ছয় মাস প্রশিক্ষণ নেন এবং সেখানে ক্রিকেট বলে তাঁর প্রথম উইকেট ছিলেন রাকিবুল হাসান।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক

সাকিব আল হাসান ২০০৬ সালে জিম্বাবুয়ে সফরে ODI অভিষেক করেন। একই বছর তিনি T20I ক্রিকেটেও অভিষিক্ত হন। ২০০৭ সালে ভারতের বিপক্ষে তাঁর টেস্ট অভিষেক হয়।[ref]

২০০৮ — টেস্ট ক্রিকেটে বিস্ফোরণ

২০০৮ সালে চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর সপ্তম টেস্টে সাকিব ৭১ রান করেন এবং ৭ উইকেটে ৩৬ রান দিয়ে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে টেস্টে সাত উইকেটের কীর্তি গড়েন।[ref]

বাংলাদেশ দলের অধিনায়কত্ব

২০০৯ সালে মাশরাফি মুর্তজার আঘাতজনিত অনুপস্থিতিতে সাকিব তিন ফরম্যাটেই অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ ৪৭টি ODI-এর মধ্যে ২২টি জেতে এবং ২০১১ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে চমক দেখায়। ২০০৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি মোট ১২০টি ম্যাচে বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দেন।

ICC #১ অলরাউন্ডার — ইতিহাসের মাইলফলক

২০১৫ সালে সাকিব একই সময়ে তিন ফরম্যাটেই ICC র‌্যাংকিংয়ে ১ নম্বর অলরাউন্ডারের মর্যাদা পান — ক্রিকেট ইতিহাসে এই বিরল কীর্তি তাঁরই। তিনি ICC ODI Player of the Year ২০১৫ পুরস্কারও পান।[ref]

২০১৯ বিশ্বকাপ — অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স

২০১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে সাকিব নয় ইনিংসে ছয়টি হাফসেঞ্চুরি ও দুটি সেঞ্চুরি করেন এবং ১১ উইকেট নেন। তিনি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে সর্বোচ্চ রানের সচিন তেন্ডুলকারের রেকর্ড ভেঙে ৬০৬ রান করেন এবং সামগ্রিকভাবে তৃতীয় সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক হন। এছাড়া তিনিই একমাত্র ক্রিকেটার যিনি একই বিশ্বকাপে ৪০০ রান ও ১০০ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন।

ICC নিষেধাজ্ঞা (২০১৯)

২০১৯ সালে ICC সাকিবকে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা দেয় (এক বছর স্থগিত), কারণ তিনি ২০১৮ সালের ত্রিদেশীয় সিরিজ ও IPL চলাকালে দুর্নীতির প্রস্তাব পেয়ে ICC-কে রিপোর্ট করেননি। ২০২০ সালের শেষে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা শেষে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরেন।

ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট

সাকিব কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR)-এর হয়ে ২০১২ ও ২০১৪ সালে দুবার IPL শিরোপা জেতেন। এছাড়া BPL-এ ঢাকা ডমিনেটর্সের হয়ে ২০১২, ২০১৩ ও ২০১৬ সালে তিনবার চ্যাম্পিয়ন হন। BPL-এ চারবার টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় পুরস্কার পেয়েছেন।

রাজনীতিতে যোগদান ও বিতর্ক

সাকিব ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দেন এবং ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে মাগুরা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্টে সংসদ ভেঙে দেওয়ায় তাঁর সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয়। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে প্রতিবাদী আন্দোলনে নীরব থাকার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের হয়।

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি

২০২৪ সালে T20I ও টেস্ট থেকে অবসর ঘোষণা করেন। দেশে ফিরে বিদায়ী টেস্ট খেলার ইচ্ছা থাকলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে তা সম্ভব হয়নি। ২০২৫ সালের আগস্টে CPL-এ খেলার সময় T20 ক্রিকেটে তাঁর ৫০০তম উইকেট আসে, তিনি এই মাইলফলক স্পর্শ করা পঞ্চম ক্রিকেটার।

উল্লেখযোগ্য রেকর্ড

তিনি ICC পুরুষ T20 বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৪১টি ম্যান অব দ্য ম্যাচ পুরস্কার পেয়েছেন। শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ৪,১৩৩ রান ও ২০১ উইকেট — এক মাঠে সর্বোচ্চ রান ও উইকেটের বিশ্বরেকর্ড

জীবনীটি শেয়ার করুন

এই অনুপ্রেরণামূলক গল্পটি অন্যদের সাথে ছড়িয়ে দিন।

Facebook WhatsApp