মাশরাফি মোর্তাজা
"মাশরাফি বিন মোর্তজা বাংলাদেশ ক্রিকেটের সর্বকালের সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ী চরিত্র। ১৬ বছরের ক্যারিয়ারে ১১ বার চোট পেয়ে ৭ বার অপারেশন করেও মাঠে ফিরে আসার অদম্য সংগ্রাম তাঁকে কিংবদন্তির মর্যাদা দিয়েছে। তাঁর নেতৃত্বেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বিশ্বমঞ্চে সমীহ আদায় করতে শিখেছে। ক্রিকেটের পাশাপাশি রাজনীতিতেও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন নড়াইলের এই কৃতী সন্তান।"
একনজরে
- জন্ম
- ৫ অক্টোবর ১৯৮৩
- জন্মস্থান
- নড়াইল জেলা, বাংলাদেশ
- পিতা / মাতা
- গোলাম মোর্তজা / হামিদা মুর্তজা
- স্ত্রী
- সুমনা হক সুমি
- শিক্ষা
- ভিক্টোরিয়া কলেজ । জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
- আন্তর্জাতিক অভিষেক
- ৮ নভেম্বর ২০০১। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম
- বোলিং / ব্যাটিং ধরন
- ডানহাতি মিডিয়াম পেস / ডানহাতি ব্যাটসম্যান
- অবসর
- টি-টোয়েন্টি: ২০১৭ । ওয়ানডে: ২০২০
- রাজনীতি
- নড়াইল-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য । হুইপ (প্রতিমন্ত্রী মর্যাদা)
- বিশেষ অর্জন
- বাংলাদেশের সেরা ওডিআই উইকেটশিকারী - ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারত বধ - অধিনায়ক অবস্থায় অবসর - নড়াইল এক্সপ্রেস
format_list_bulleted সূচিপত্র expand_more
জন্ম ও পারিবারিক পরিচয়
মাশরাফি বিন মোর্তজা ১৯৮৩ সালের ৫ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মস্থান বাংলাদেশের নড়াইল জেলায়। তাঁর পিতার নাম গোলাম মোর্তজা এবং মাতার নাম হামিদা মুর্তজা। তাঁর স্ত্রীর নাম সুমনা হক সুমি। তাঁদের সন্তানদের নাম হুমায়রা মুর্তজা ও সাহেল মুর্তজা। মাশরাফির ডাকনাম 'কৌশিক', তবে মাঠে তিনি 'ম্যাশ' এবং সমর্থকদের কাছে 'নড়াইল এক্সপ্রেস' নামে সুপরিচিত।[ref]
শৈশব ও ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ
ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি গভীর আগ্রহ ছিল মাশরাফির। তাঁদের বাড়ির পাশেই ছিল একটি স্কুলমাঠ, যেখানে বড়রা নিয়মিত ক্রিকেট খেলতেন। সেই মাঠে বড়দের ক্রিকেট খেলা দেখতে দেখতেই তাঁর ক্রিকেটের প্রতি অনুরাগ জন্মায়। ছোট্ট মাশরাফি উইকেটকিপারের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতেন, কিন্তু আহত হওয়ার ভয়ে বড়রা তাঁকে সরিয়ে দিতেন। তবু সেই ক্রিকেটপ্রেম থেকে তাঁকে কেউ আটকাতে পারেনি।[ref]
শিক্ষাজীবন ও পেশাদার ক্যারিয়ারের সূচনা
মাশরাফি ভিক্টোরিয়া কলেজে পড়াশোনা করেন এবং পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। পড়াশোনার পাশাপাশি ক্রিকেটে মনোযোগ দিয়ে তিনি দ্রুতই ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজের প্রতিভার প্রমাণ দিতে শুরু করেন।[ref]
জাতীয় দলে আগমন ও অভিষেক
আক্রমণাত্মক গতিময় বোলিং দিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ দলে থাকার সময়ই মাশরাফি ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক পেস বোলার অ্যান্ডি রবার্টসের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন, যিনি তখন দলের অস্থায়ী বোলিং কোচের দায়িত্বে ছিলেন। রবার্টসের পরামর্শেই মাশরাফিকে বাংলাদেশ এ-দলে নেওয়া হয়।
বাংলাদেশ এ-দলের হয়ে মাত্র একটি ম্যাচ খেলেই তিনি জাতীয় দলে সুযোগ পান। ২০০১ সালের ৮ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর অভিষেক হয়। অভিষেকেই তিনি ১০৬ রানে ৪টি উইকেট নিয়ে নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করেন। গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ার ছিলেন তাঁর প্রথম টেস্ট শিকার। একই বছর ২৩ নভেম্বর ওয়ানডে ক্রিকেটেও তাঁর অভিষেক হয়, যেখানে তিনি ২৬ রানে ২টি উইকেট সংগ্রহ করেন।[ref]
চোটের বিরুদ্ধে অদম্য লড়াই
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্ট খেলার সময় তিনি হাঁটুতে মারাত্মক আঘাত পান এবং প্রায় দুই বছর ক্রিকেটের বাইরে থাকতে বাধ্য হন। ষোল বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ১১ বার চোটের কারণে দলের বাইরে যেতে হয়েছে মাশরাফিকে। চোটের কারণে সাতবার অপারেশন টেবিলে যেতে হয়েছে তাঁকে। চোটই তাঁর কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিল ২০১১ সালের দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগ। তবু বারবার ফিরে এসেছেন, প্রতিবার আরও দৃঢ় মনোবল নিয়ে।
অধিনায়কত্ব ও সাফল্য
মাশরাফি বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বকালের সেরা অধিনায়ক হিসেবে বিবেচিত। ২০০৭ সালের ওডিআই বিশ্বকাপে মাশরাফির নেতৃত্বে বাংলাদেশ ভারতকে হারায়। সেই ম্যাচে তিনি ৩৮ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপ একাই গুঁড়িয়ে দেন। তাঁর অধিনায়কত্বে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বহু স্মরণীয় জয় অর্জন করে এবং বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সমীহযোগ্য শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
২০১৬ সালে ইংল্যান্ড-বাংলাদেশ ওয়ানডে সিরিজে ২ উইকেট সংগ্রহের মাধ্যমে মোট ২১৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেটে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীর রেকর্ড নিজের নামে করেন তিনি।
অবসর
২০১৭ সালের ৬ এপ্রিল বাংলাদেশ বনাম শ্রীলঙ্কা সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিটি খেলে তিনি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেন। মাশরাফি বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার যিনি অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় অবসর নেন। পরে ২০২০ সালে ওয়ানডে থেকেও অবসর নেন।
রাজনৈতিক জীবন
মাশরাফি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে নড়াইল-২ আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয়ী হন। তিনি নড়াইল-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় জাতীয় সংসদের হুইপ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।