Bio.bd Logo
ফাহিম আল চৌধুরী
volunteer_activism সমাজসেবক

ফাহিম আল চৌধুরী

"ফাহিম আল চৌধুরী (পূর্ণ নাম: ফাহিম আল ইসহাক চৌধুরী) একজন সুপরিচিত প্রবাসী বাংলাদেশী ব্যবসায়ী, শিল্পপতি এবং সমাজসেবক। তিনি মূলত যুক্তরাজ্য (লন্ডন) এবং বাংলাদেশে বিভিন্ন ব্যবসায়িক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। বাংলাদেশের মূলধারার গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি তার অনুপ্রেরণামূলক জীবনসংগ্রাম, দাতব্য কাজ এবং বিশেষ করে "মায়ের দোয়ায় সফল হওয়া" ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিশেষভাবে আলোচিত।"

edit_calendar 15 Jun, 2026 update আপডেট: 20 Jun, 2026 visibility 23

একনজরে

পূর্ণ নাম
ফাহিম আল ইসহাক চৌধুরী
পৈতৃক নিবাস
জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট, সিলেট
ব্যবসায়িক খাত
আবাসন (Real Estate), আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, ইম্পোর্ট-এক্সপোর্ট ও বিনিয়োগ
ধর্ম
ইসলাম
দাতব্য সংস্থা
প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি, 'ফাহিম আল চৌধুরী ট্রাস্ট'
জীবনদর্শন ও বাণী
"সততা, কঠোর পরিশ্রম এবং মা-বাবার সেবাই মানুষের রিজিক ও সফলতার মূল চাবিকাঠি।"
format_list_bulleted সূচিপত্র expand_more

প্রারম্ভিক জীবন ও পারিবারিক পটভূমি

ফাহিম আল চৌধুরীর পৈতৃক নিবাস বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জেলা সিলেটের জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলায়। তিনি একটি ঐতিহ্যবাহী ও ধর্মপ্রাণ মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার শৈশব ও কৈশোরের একটি বড় অংশ বাংলাদেশে কাটলেও পরবর্তী সময়ে তিনি উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ারের উদ্দেশ্যে প্রবাসে পাড়ি জমান।

পারিবারিক জীবনে ফাহিম আল চৌধুরী তার মায়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও আনুগত্যের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বারবার উল্লেখ করেছেন যে, তার বর্তমান অবস্থান ও ব্যবসায়িক সাফল্যের মূল ভিত্তি হলো তার মায়ের দোয়া এবং তার দেখানো সততার পথ।

শিক্ষা ও প্রবাস জীবনের সংগ্রাম

শৈশবে ফাহিম আল চৌধুরীর স্বপ্ন ছিল একজন বৈমানিক বা পাইলট হওয়ার। এই লক্ষ্য নিয়ে তিনি পড়াশোনা ও প্রস্তুতিও শুরু করেছিলেন। তবে জীবনের নানা বাস্তবতায় এবং পরিস্থিতির পরিবর্তনে তাকে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে চলে যেতে হয়।

লন্ডনে তার প্রাথমিক দিনগুলো অত্যন্ত প্রতিকূল ও কষ্টসাধ্য ছিল। কোনো রকম পারিবারিক ব্যাকআপ ছাড়া, সম্পূর্ণ শূন্য থেকে তাকে প্রবাসে টিকে থাকার লড়াই শুরু করতে হয়। জীবনধারণের জন্য তিনি বিভিন্ন সাধারণ ও কঠোর পরিশ্রমের কাজ করেছেন। এই দীর্ঘ সংগ্রাম তাকে বাস্তবমুখী করে তোলে এবং ব্যবসায়িক জগতে প্রবেশের মানসিক শক্তি জোগায়।

ব্যবসায়িক কর্মজীবন ও উত্থান

কঠোর পরিশ্রম এবং সঠিক কৌশলগত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ফাহিম আল চৌধুরী লন্ডনে নিজের ব্যবসায়িক ভিত্তি স্থাপন করেন। পরবর্তীতে তিনি তার ব্যবসার পরিধি বাংলাদেশেও সম্প্রসারিত করেন।

  • বহুমাত্রিক উদ্যোগ: তিনি আবাসন (Real Estate), আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ খাতে সফলতার সাথে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
  • কর্মসংস্থান তৈরি: তার বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যে বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
  • অর্থনৈতিক দর্শন: তিনি কেবল মুনাফা অর্জনের জন্য ব্যবসা করার চেয়ে, সামাজিক কল্যাণে অবদান রাখতে পারে এমন টেকসই ব্যবসায়িক মডেলে বিশ্বাসী।

সামাজিক কল্যাণ ও মানবহিতৈষী কর্মকাণ্ড

ফাহিম আল চৌধুরী সমাজসেবামূলক কাজের জন্য দেশব্যাপী প্রশংসিত। বিশেষ করে তার নিজ জন্মভূমি সিলেটের অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

ফাহিম আল চৌধুরী ট্রাস্ট

তার সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমগুলো সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য তিনি ‘ফাহিম আল চৌধুরী ট্রাস্ট’ প্রতিষ্ঠা করেন।

  • আর্থিক তহবিল: ট্রাস্টের স্থায়ী জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য প্রাথমিকভাবে ৫ কোটি টাকার একটি স্থায়ী তহবিল (Endorsement Fund) গঠন করা হয়, যা পরবর্তীতে ১০ কোটি টাকায় উন্নীত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই তহবিলের লভ্যাংশ সরাসরি গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় হয়।
  • শিক্ষা বৃত্তি কর্মসূচি: এই ট্রাস্টের আওতায় সিলেটের জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলার প্রায় ২০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা) মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের নিয়মিত আর্থিক অনুদান ও বৃত্তি প্রদান করা হয়। সাম্প্রতিক একটি বৃহৎ আয়োজনে প্রায় ৬০০ জন শিক্ষার্থীকে সরাসরি এই মেধা বৃত্তি দেওয়া হয়েছে।.[ref]
  • নারী শিক্ষার প্রসার: অবহেলিত অঞ্চলের মেয়েদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে তিনি একটি আধুনিক মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করেছেন।
  • কারিগরি শিক্ষা: তরুণদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে তথ্যপ্রযুক্তি (IT) ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন।

গণমাধ্যম, সমসাময়িক আলোচনা ও ভাইরাল ঘটনাবলি

২০২৫ ও ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশের মূলধারার গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাহিম আল চৌধুরী অন্যতম আলোচিত ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। তার কিছু আলোচিত কর্মকাণ্ড নিচে উল্লেখ করা হল

'কালো মানিক' ক্রয় ও কোরবানি ঈদ

২০২৫ সালের কোরবানি ঈদে বাংলাদেশের পশুর হাটে সবচেয়ে আলোচিত এবং রাজনৈতিকভাবে প্রতীকী মূল্যের গরু ‘কালো মানিক’-কে তিনি ২০ লাখ টাকায় ক্রয় করেন। এই ঘটনাটি দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম যেমন—সময় টিভি, প্রথম আলো এবং অন্যান্য অনলাইন পোর্টালে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে প্রচারিত হয় এবং সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক কৌতুহল সৃষ্টি করে।[ref]

পথশিশু ফাইজার পাশে দাঁড়ানো

ঢাকার রাস্তায় ফুল বিক্রি করা শিশু 'ফাইজা' সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে, ফাহিম আল চৌধুরী তার দায়িত্ব নেন। তিনি ফাইজাকে তাৎক্ষণিক বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি তার নিরাপত্তা এবং পড়াশোনার স্থায়ী ব্যবস্থা নিশ্চিত করেন। এই মানবিক উদ্যোগটি ডিবিসি নিউজসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রশংসিত হয়।[ref]

আরজে নীরব পডকাস্ট (Life Story)

২০২৬ সালের শুরুতে দেশের জনপ্রিয় উপস্থাপক আরজে নীরবের পডকাস্টে অতিথি হিসেবে অংশ নেন ফাহিম আল চৌধুরী। সেখানে তিনি তার জীবনের অন্ধকার অধ্যায়, তীব্র মানসিক বিষণ্ণতা (Depression) থেকে উত্তরণের গল্প এবং পবিত্র কুরআন মুখস্থ করার নিজস্ব আধ্যাত্মিক জার্নি শেয়ার করেন। এই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোটি মানুষের কাছে পৌঁছায় এবং তরুণদের মাদক, হতাশা ও অপরাধমূলক জীবন থেকে ফিরে আসার জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে।[ref]

ব্যক্তিগত জীবন ও জীবনদর্শন

ফাহিম আল চৌধুরী একজন ধর্মপ্রাণ এবং প্রচারবিমুখ জীবনযাপনে বিশ্বাসী মানুষ, যদিও তার কাজের পরিধি তাকে প্রায়ই লাইমলাইটে নিয়ে আসে। তিনি মনে করেন, তরুণদের কেবল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত হলেই চলবে না, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চাও করতে হবে।

"পৃথিবীর সব সফলতার চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে মা-বাবার সেবায়। আপনি যদি আপনার মায়ের মুখে হাসি ফোটাতে পারেন, তবে সৃষ্টিকর্তা আপনার রিজিক এবং সম্মানের দরজা এমনিতেই খুলে দেবেন।" — ফাহিম আল চৌধুরী

জীবনীটি শেয়ার করুন

এই অনুপ্রেরণামূলক গল্পটি অন্যদের সাথে ছড়িয়ে দিন।

Facebook WhatsApp