ফরিদা আখতার
"ফরিদা আখতার বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট সমাজকর্মী, লেখক, গবেষক, পরিবেশবাদী ও মানবাধিকারকর্মী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কৃষি, জীববৈচিত্র্য, নারী অধিকার, পরিবেশ ও উন্নয়ননীতি নিয়ে কাজ করে আসছেন। বাংলাদেশের বিকল্প উন্নয়নচিন্তা এবং কৃষকবান্ধব আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে তিনি পরিচিত। তিনি বিশেষভাবে পরিচিত “নয়া কৃষি আন্দোলন”-এর সঙ্গে যুক্ত থাকার জন্য। এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল পরিবেশবান্ধব কৃষি, দেশীয় বীজ সংরক্ষণ এবং রাসায়নিক নির্ভর কৃষির বিরোধিতা। একই সঙ্গে তিনি নারী অধিকার, খাদ্য নিরাপত্তা ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়েও কাজ করেছেন।"
একনজরে
- জন্ম
- ১৯৫৩ সাল
- নাগরিকত্ব
- বাংলাদেশী
- জাতীয়তা
- বাংলাদেশী
- দাম্পত্য সঙ্গী
- ফরহাদ মজহার
- পেশা
- অর্থনীতিবীদ
format_list_bulleted সূচিপত্র expand_more
পরিচয়
ফরিদা আখতার বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট সমাজকর্মী, লেখক, গবেষক, পরিবেশবাদী ও মানবাধিকারকর্মী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কৃষি, জীববৈচিত্র্য, নারী অধিকার, পরিবেশ ও উন্নয়ননীতি নিয়ে কাজ করে আসছেন। বাংলাদেশের বিকল্প উন্নয়নচিন্তা এবং কৃষকবান্ধব আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে তিনি পরিচিত।
তিনি বিশেষভাবে পরিচিত “নয়া কৃষি আন্দোলন”-এর সঙ্গে যুক্ত থাকার জন্য। এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল পরিবেশবান্ধব কৃষি, দেশীয় বীজ সংরক্ষণ এবং রাসায়নিক নির্ভর কৃষির বিরোধিতা। একই সঙ্গে তিনি নারী অধিকার, খাদ্য নিরাপত্তা ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়েও কাজ করেছেন।
জন্ম ও শৈশব
ফরিদা আখতার ১৯৫৩ সালে চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ উপজেলার হারলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি সমাজ ও মানুষের সমস্যা সম্পর্কে সচেতন ছিলেন। গ্রামীণ জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা তাঁর চিন্তাভাবনা ও ভবিষ্যৎ কাজের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে।[ref] .
শিক্ষাজীবন
তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়-এ অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা করেন। শিক্ষাজীবনে তিনি উন্নয়ন অর্থনীতি, সমাজনীতি ও কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কাঠামো নিয়ে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।
পরে এই জ্ঞানকে তিনি গবেষণা ও সমাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত করেন। তাঁর কাজের বড় অংশই ছিল উন্নয়নের প্রচলিত ধারণার সমালোচনা এবং বিকল্প উন্নয়ন মডেলের অনুসন্ধান। [ref].
UBINIG প্রতিষ্ঠা
ফরিদা আখতার ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠা করেন—
UBINIG
UBINIG-এর পূর্ণরূপ হলো Policy Research for Development Alternative। এই প্রতিষ্ঠান কৃষি, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, নারী অধিকার ও বিকল্প উন্নয়ননীতি নিয়ে গবেষণা ও আন্দোলন পরিচালনা করে।
সংস্থাটি বাংলাদেশের গ্রামীণ কৃষকদের সঙ্গে কাজ করে দেশীয় বীজ সংরক্ষণ, রাসায়নিকমুক্ত কৃষি এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেয়। [ref].
নয়া কৃষি আন্দোলন
ফরিদা আখতার “নয়া কৃষি আন্দোলন”-এর অন্যতম সংগঠক। এই আন্দোলনের মূল ধারণা ছিল—
- দেশীয় বীজ সংরক্ষণ
- কৃষকের অধিকার রক্ষা
- রাসায়নিক সার ও বিষাক্ত কীটনাশকের ব্যবহার কমানো
- জীববৈচিত্র্য রক্ষা
- কৃষিকে বহুজাতিক কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত রাখা
তিনি জেনেটিক্যালি পরিবর্তিত ফসল (GMO) ও Bt Brinjal-এর বিরোধিতা করেছিলেন। তাঁর মতে, কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থাকে বহুজাতিক বাণিজ্যিক স্বার্থের বাইরে রাখতে হবে।
নারী অধিকার ও সমাজচিন্তা
ফরিদা আখতার নারীর রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকারের প্রশ্নেও সক্রিয় ছিলেন। তিনি নারীর সরাসরি রাজনৈতিক অংশগ্রহণের পক্ষে মত দিয়েছেন।
২০০৪ সালে সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে সাংবিধানিক প্রশ্ন তুলে তিনি আইনি পদক্ষেপেও অংশ নেন। তাঁর মতে, নারীদের প্রকৃত ক্ষমতায়নের জন্য সরাসরি নির্বাচনের সুযোগ থাকা জরুরি।
তিনি গার্হস্থ্য সহিংসতা, সামাজিক বৈষম্য ও মানবাধিকার ইস্যুতেও দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। [ref].
লেখালেখি ও গবেষণা
ফরিদা আখতার একজন সক্রিয় লেখক ও কলামিস্ট। তিনি কৃষি, পরিবেশ, নারী অধিকার, খাদ্য নিরাপত্তা ও উন্নয়ননীতি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন।
তাঁর লেখার বৈশিষ্ট্য হলো—
- প্রচলিত উন্নয়ন মডেলের সমালোচনা
- পরিবেশ ও মানুষের সম্পর্কের বিশ্লেষণ
- গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষকের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরা
- নারীর সামাজিক অবস্থান বিশ্লেষণ
তিনি বিভিন্ন বই ও গবেষণাপত্রও প্রকাশ করেছেন।
রাজনৈতিক ও সামাজিক ভূমিকা
বাংলাদেশের বিভিন্ন গণআন্দোলন ও মানবাধিকার ইস্যুতে ফরিদা আখতার সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।
২০২৪ সালে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর এই ভূমিকা বাংলাদেশের নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। [ref].
ব্যক্তিগত জীবন
ফরিদা আখতারের স্বামী ফরহাদ মজহার বাংলাদেশের একজন পরিচিত কবি, প্রাবন্ধিক ও সমাজচিন্তক। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত।
চিন্তাধারা
ফরিদা আখতার উন্নয়নের এমন এক মডেলে বিশ্বাস করেন যেখানে—
- প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষা পায়
- কৃষক ও সাধারণ মানুষের অধিকার নিশ্চিত হয়
- নারীর ক্ষমতায়ন ঘটে
- স্থানীয় সংস্কৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষিত থাকে
তিনি ভোগবাদী ও মুনাফাকেন্দ্রিক অর্থনীতির সমালোচক। তাঁর মতে, প্রকৃতি ধ্বংস করে কোনো টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।