তারেক রহমান
"তারেক রহমান বাংলাদেশের একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি ১৯৬৮ সালের ২০ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে তারেক জিয়া নামেও পরিচিত। তিনি বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে। ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।"
একনজরে
- জন্ম
- ২০ নভেম্বর ১৯৬৮ ঢাকা, বাংলাদেশ
- পদ
- প্রধানমন্ত্রী (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬–বর্তমান)
- দল
- বিএনপি
- পিতা
- জিয়াউর রহমান
- মাতা
- বেগম খালেদা জিয়া
- স্ত্রী
- ডা. জুবাইদা রহমান
- সন্তান
- জাইমা জারনাজ রহমান
format_list_bulleted সূচিপত্র expand_more
প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষা
তারেক রহমান ১৯৬৮ সালের ২০ নভেম্বর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পূর্বপুরুষেরা বগুড়া জেলার বাসিন্দা ছিলেন।তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু হয় বিএএফ শাহীন কলেজ ঢাকায়। পরে সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ থেকে এসএসসি (১৯৮২) শেষ করেন। আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করে ১৯৮৫-৮৬ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হন। স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষে পড়াকালীন তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে দেন। নির্বাচনী হলফনামায় তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা 'উচ্চ মাধ্যমিক' হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।[ref]
ব্যবসায়িক জীবন
বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে দেওয়ার পর তারেক রহমান বস্ত্রশিল্প ও নৌ-যোগাযোগ খাতে ব্যবসা শুরু করেন। রাজনৈতিক কার্যক্রমে সক্রিয় হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে বিশেষ অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।[ref]
রাজনৈতিক জীবন
পিতা জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত বিএনপির বগুড়া কমিটির সদস্য হিসেবে যোগদানের মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি মা খালেদা জিয়ার সহচর হিসেবে সারা দেশের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন।
২০০২ সালের পর তিনি দলের স্থায়ী কমিটি সদস্য হিসেবে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব নেন এবং দেশব্যাপী ব্যাপক গণসংযোগ কার্যক্রম পরিচালনা করেন। যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের মাধ্যমে তিনি দলীয় কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করেন।[ref],
নির্বাসন ও আইনি মামলা
২০০৭ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, মানি লন্ডারিং, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও গ্রেনেড হামলাসহ মোট ৮৪টি মামলা হয়। ২০১৮ সালে খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করা হলে তারেক রহমান একই দিন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দলের দায়িত্ব নেন।
প্রায় দুই দশক যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত থাকাকালীন তিনি লন্ডন থেকেই দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং বিবিসি বাংলাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেন। ২০২৪ সালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আদালত তাঁকে সব মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়।[ref]
দেশে প্রত্যাবর্তন
২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর প্রায় দুই দশক পর তারেক রহমান বাংলাদেশে ফিরে আসেন। দেশে ফেরার পর ২৬ ডিসেম্বর পিতার কবর জিয়ারত করেন এবং পুরোদমে রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু করেন। ২০২৬ সালের ৯ জানুয়ারি তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।[ref]
নির্বাচন ও শপথ
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি 'ধানের শীষ' প্রতীকে ২০৯টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ জয় লাভ করে। তারেক রহমান ব্যক্তিগতভাবে ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে জয়লাভ করেন।
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় — বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে — রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের কাছে ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।[ref]
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে তারেক রহমান টাইম ম্যাগাজিনের বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ জন ব্যক্তির তালিকায় স্থান পান।
ব্যক্তিগত জীবন
তারেক রহমান ১৯৯৪ সালে সাবেক নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের কন্যা ডা. জুবাইদা রহমানের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁর স্ত্রী একজন কার্ডিওলজিস্ট। দম্পতির একমাত্র সন্তান ব্যারিস্টার জাইমা জারনাজ রহমান।