Bio.bd Logo
শায়খ আহমাদুল্লাহ
groups_3 এক্টিভিস্ট

শায়খ আহমাদুল্লাহ

"আহমাদুল্লাহ, যিনি শায়খ আহমাদুল্লাহ নামে অধিক পরিচিত, একজন বাংলাদেশি ইসলামি ব্যক্তিত্ব, আলোচক ও সক্রিয় সামাজিক কর্মী। তিনি আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং নারায়ণগঞ্জের ভূমিপল্লী জামে মসজিদের খতিব। তিনি লেখালেখি, গবেষণা, সভা-সেমিনারে লেকচার ও বহুমুখী দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করেন।"

edit_calendar 03 May, 2026 update আপডেট: 22 Jun, 2026 visibility 91

একনজরে

জন্ম
১৫ ডিসেম্বর ১৯৮১ বশিকপুর, লক্ষ্মীপুর
পেশা
ইসলামি বক্তা, লেখক, খতিব, গবেষক
শিক্ষা
দাওরায়ে হাদীস (২য় স্থান), বেফাক; ইফতা, খুলনা দারুল উলূম
প্রতিষ্ঠান
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন
খতিব
ভূমিপল্লী জামে মসজিদ, নারায়ণগঞ্জ
format_list_bulleted সূচিপত্র expand_more

প্রারম্ভিক জীবন

শায়খ আহমাদুল্লাহ ১৯৮১ সালের ১৫ ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুরের বশিকপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পড়ালেখার হাতেখড়ি মমতাময়ী মায়ের হাতে এবং প্রাথমিক পড়াশোনা শেষ করেন বশিকপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।[ref]

শিক্ষাজীবন

প্রাথমিক শিক্ষার পর তিনি কওমি মাদরাসায় ভর্তি হন। নোয়াখালীর একাধিক মাদরাসায় কয়েক বছর পড়ার পর হাতিয়ার ফয়জুল উলূম মাদরাসায় ভর্তি হন, যেখানে প্রখ্যাত আলেম মুফতি সাইফুল ইসলাম (রহ.)-এর সান্নিধ্য লাভের সুযোগ হয়।

এরপর তিনি দেশের সর্ববৃহৎ দীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল উলূম হাটহাজারী মাদরাসায় ভর্তি হন। কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড (বেফাক) পরীক্ষায় — উচ্চমাধ্যমিকে (সানুবিয়্যা) দশম স্থান, স্নাতকে (ফযীলত) তৃতীয় স্থান এবং ২০০১ সালে দাওরায়ে হাদীসে সম্মিলিত মেধাতালিকায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। দাওরায়ে হাদীস শেষে খুলনা দারুল উলূম থেকে ইফতা সম্পন্ন করেন।[ref]

শিক্ষকতা ও ইমামতি (২০০৩–২০০৯)

লেখাপড়া শেষে তিনি মিরপুরের দারুর রাশাদ মাদরাসায় শিক্ষকতায় যোগ দেন এবং ২০০৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত সেখানে কর্মরত ছিলেন। মাঝে এক বছর মিরপুরের আরজাবাদ মাদরাসায়ও হাদীসের শিক্ষকতা করেন। পাশাপাশি ২০০৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত মিরপুরের বায়তুল ফালাহ জামে মসজিদে ইমাম ও খতিবের দায়িত্ব পালন করেন।[ref]

সৌদি আরবে দাওয়াহকর্ম (২০০৯–প্রায় ২০১৯)

২০০৯ সালে আরবি ভাষায় বিশেষ দক্ষতার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে ডাক পান। সৌদি আরবের পশ্চিম দাম্মাম ইসলামিক দাওয়াহ সেন্টারে প্রীচার ও ট্রান্সলেটর হিসেবে দীর্ঘ প্রায় দশ বছর কাজ করেন। সেখানে আরব ও বাংলাদেশি উভয় সম্প্রদায়ের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেন।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন

২০১৭ সালে শায়খ আহমাদুল্লাহ প্রতিষ্ঠা করেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন — বাংলাদেশভিত্তিক একটি অরাজনৈতিক, অলাভজনক ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্থা। এটি শিক্ষা, দাওয়াহ, প্রশিক্ষণ ও মানবকল্যাণমূলক কাজ করে এবং এর অধীনে মাদরাসা ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট পরিচালিত হয়।

ফাউন্ডেশনটি করোনা মহামারী (২০২০), সিলেট-সুনামগঞ্জ বন্যা (২০২২), তুরস্ক-সিরিয়া ভূমিকম্প (২০২৩) এবং ২০২৪ সালের বন্যায় ব্যাপক ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। ২০২৪ সালের বন্যায় ১০০ কোটি টাকার সহায়তার লক্ষ্যে কাজ করে। এছাড়াও শীতবস্ত্র, কুরবানির মাংস বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিচালনা করে।[ref]

আন্তর্জাতিক কার্যক্রম

শায়খ আহমাদুল্লাহ জাপান, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, আরব আমিরাতসহ অন্তত ২৫টি দেশে দাওয়াতি কাজের সেমিনারে অংশগ্রহণ করেছেন। বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমে তাঁর লেখা নিয়মিত প্রকাশিত হয় এবং আরবি ভাষায়ও তাঁর বহু প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

রচনাবলি ও গণমাধ্যম

শায়খ আহমাদুল্লাহ দাওয়াহ ও গবেষণা বিষয়ে কয়েকশত প্রবন্ধ-নিবন্ধ লিখেছেন। বাংলা ও আরবি উভয় ভাষায় তাঁর বেশ কয়েকটি বই প্রকাশিত হয়েছে। তিনি ইসলামি প্রশ্নোত্তর ওয়েবসাইট iqa.info প্রতিষ্ঠা করেছেন, যেখানে দৈনন্দিন জীবনের ইসলামি সমস্যার সমাধান দেওয়া হয়।[ref]

পুরস্কার ও স্বীকৃতি

  • রকমারি.কম বেস্টসেলার অ্যাওয়ার্ড — ২০২৪
  • দাওরায়ে হাদীসে সম্মিলিত মেধাতালিকায় দ্বিতীয় স্থান — ২০০১ (বেফাক)

রাজনৈতিক প্রস্তাব ও অবস্থান

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রাক্কালে তাঁকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।[ref]

জীবনীটি শেয়ার করুন

এই অনুপ্রেরণামূলক গল্পটি অন্যদের সাথে ছড়িয়ে দিন।

Facebook WhatsApp