Bio.bd Logo
মোস্তাফা জব্বার
terminal আইটি বিশেষজ্ঞ

মোস্তাফা জব্বার

"মোস্তাফা জব্বার বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের একজন পরিচিত মুখ, যিনি প্রযুক্তি উদ্যোক্তা, সফটওয়্যার নির্মাতা ও সাবেক মন্ত্রী হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। ১৯৪৯ সালের ১২ আগস্ট জন্ম নেওয়া এই প্রযুক্তিবিদ ১৯৮৮ সালে জনপ্রিয় বিজয় বাংলা কীবোর্ড তৈরি করেন, যা দীর্ঘ সময় ধরে বাংলা টাইপিংয়ের সবচেয়ে ব্যবহৃত ইনপুট পদ্ধতি হিসেবে পরিচিত ছিল। পরবর্তীতে ইউনিকোডভিত্তিক অভ্র কীবোর্ড জনপ্রিয়তা পাওয়ার আগে বিজয় কীবোর্ডই ছিল বাংলা লেখার প্রধান মাধ্যম। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশে “ডিজিটাল বাংলাদেশ” ধারণাকে জনপ্রিয় করে তোলার অগ্রদূতদের একজন হিসেবে পরিচিত।"

edit_calendar 06 May, 2026 update আপডেট: 22 Jun, 2026 visibility 56

একনজরে

জন্ম
১২ আগস্ট ১৯৪৯
জন্মস্থান
আশুগঞ্জ উপজেলা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বাংলাদেশ
পৈতৃক বাড়ি
কৃষ্ণপুর গ্রাম, খালিয়াজুরি উপজেলা, নেত্রকোণা
পিতা / মাতা
আবদুল জব্বার তালুকদার / রাবেয়া খাতুন
সন্তান
১ পুত্র, ২ কন্যা
শিক্ষা
উচ্চমাধ্যমিক: ঢাকা কলেজ / স্নাতক (BA) বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৭২) / স্নাতকোত্তর (MA) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৭৪)
পেশা ও দায়িত্ব
প্রতিষ্ঠা আনন্দ কম্পিউটার্স (১৯৮৭) / বিজয় কীবোর্ড ১৬ ডিসেম্বর ১৯৮৮ (প্রথম বাংলা কীবোর্ড) / BASIS সভাপতি ২০১৬–২০১৮ / BCS সভাপতি: চারবার নির্বাচিত / মন্ত্রী: ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় (২০১৮–২০২৪)
উল্লেখযোগ্য অবদান
বিজয় বাংলা কীবোর্ড ১৯৮৮ / ডিজিটাল বাংলাদেশ ধারণা প্রবর্তক / আনন্দ ফন্ট তৈরি ১৯৮৭ / বাংলা ব্রেইল সিস্টেম উদ্ভাবন / ১১০+ বাংলা ফন্ট ফ্যামিলি তৈরি / মুক্তিযোদ্ধা — মুজিব বাহিনী ১৯৭১
format_list_bulleted সূচিপত্র expand_more

জন্ম ও পারিবারিক পরিচয়

মোস্তাফা জব্বারের পৈতৃক বাড়ি নেত্রকোণা জেলার খালিয়াজুরি উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামে। তিনি জন্মগ্রহণ করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ উপজেলায়। তাঁর পিতা আবদুল জব্বার তালুকদার ছিলেন কৃষক ও পাটব্যবসায়ী এবং মাতার নাম রাবেয়া খাতুন।[ref]

শিক্ষাজীবন

উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দেন ঢাকা কলেজ থেকে। এরপর ১৯৬৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন এবং ১৯৭২ সালে স্নাতক ও ১৯৭৪ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ (১৯৭১)

মোস্তাফা জব্বার ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে মুজিব বাহিনীর (বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স) সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। তিনি সুনামগঞ্জ জেলার থালিয়াজুরি থানায় মুজিব বাহিনীর উপ-কমান্ডার ছিলেন। যুদ্ধকালে তাঁর বাহিনীর কাছে শাল্লা উপজেলায় ১৬১ জন রাজাকার আত্মসমর্পণ করে — যা ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় ঘটনা।[ref]

সাংবাদিকতা জীবন

মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭২ সালের ১৬ জানুয়ারি সাংবাদিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি দৈনিক গণকণ্ঠে কাজ করেন, যা ১৯৭৫ সালে বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৭৩ সালে তিনি ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রচার সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সংগঠনিক সম্পাদকও হন।[ref]

কম্পিউটার ব্যবসায় প্রবেশ ও আনন্দ কম্পিউটার্স প্রতিষ্ঠা

গণকণ্ঠ বন্ধ হওয়ার পর ভ্রমণ সংস্থা, মুদ্রণ ও প্রকাশনায় ব্যবসা শুরু করেন। বাংলাদেশ ট্র্যাভেল এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (ATAB) সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন। ১৯৮৭ সালে তিনি কম্পিউটার ব্যবসা শুরু করেন এবং সাপ্তাহিক আনন্দপত্র প্রকাশনার কাজ করতে গিয়ে অনুভব করেন যে বাংলায় কম্পিউটারে লেখা অত্যন্ত কঠিন।

বিজয় বাংলা কীবোর্ড — ডিজিটাল বাংলার বিপ্লব (১৯৮৮)

১৯৮৮ সালের ডিসেম্বরে দিল্লির দেবেন্দ্র জোশীর সহায়তায় তিনি "BKBD" নামের একটি তিন কিলোবাইটের প্রোগ্রাম তৈরি করেন, যা অ্যাসেম্বলি ভাষায় লেখা ছিল। এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে সাধারণ এবং শিফট কী ব্যবহার করে প্রায় সব বাংলা অক্ষর লেখা সম্ভব হয়। ১৯৮৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর "বিজয়" নামে এটি বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসে। বিজয় বাংলা স্ক্রিপ্ট ইন্টারফেস সিস্টেম ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সাহিত্যকর্ম হিসেবে কপিরাইট সুরক্ষা পায় — এটি ছিল বাংলাদেশে সফটওয়্যারের প্রথম কপিরাইট নিবন্ধন। তিনি বাংলাদেশে ICT পণ্যের একমাত্র পেটেন্ট ধারক।[ref]

আনন্দ ফন্ট ও বাংলা ডিজিটাল টাইপোগ্রাফি

১৯৮৭ সালের ডিসেম্বরে তিনি "আনন্দ ফন্ট" তৈরি করেন, যা বাংলা সংবাদপত্র আজাদে প্রথম ব্যবহৃত হয় এবং জটিল যুক্তাক্ষর রেন্ডারিংয়ে উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটায়। ১৯৯৮ সালে তিনি SutonnyMJ ও SutonnyP ফন্ট প্রকাশ করেন এবং বিজয় সফটওয়্যার ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় ১১০টিরও বেশি ফন্ট ফ্যামিলি তৈরি করেন। তিনি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য বাংলা ব্রেইল পাবলিশিং সিস্টেম তৈরি করেন, যা কম্পিউটারে বাংলা ব্রেইল ব্যবহারের সুযোগ দেয়। পাশাপাশি শিশুদের জন্য "বিজয় শিশু শিক্ষা" এবং প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য "প্রাথমিক কম্পিউটার শিক্ষা" সফটওয়্যারও তৈরি করেন।[ref]

ডিজিটাল বাংলাদেশ ধারণার প্রবর্তক

মোস্তাফা জব্বারের প্রতিষ্ঠান আনন্দ কম্পিউটার্সের তথ্যমতে, তিনি ২০০৭ সালের ২৬ মার্চ একটি প্রবন্ধে "ডিজিটাল বাংলাদেশ" ধারণাটি প্রথম তুলে ধরেন। পরের বছর আওয়ামী লীগ তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে "ডিজিটাল বাংলাদেশ" গড়ার প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত করে।

শিল্প সংগঠনে নেতৃত্ব

তিনি বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (BCS), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (BASIS) এবং ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। তিনি চারবার বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত BASIS-এর সভাপতি ছিলেন।

মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব (২০১৮–২০২৪)

২০১৮ সালের ৩ জানুয়ারি তিনি বাংলাদেশ সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হন। তিনি সংসদ সদস্য নন, তাই টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। মন্ত্রী হিসেবে দেশে প্রযুক্তির প্রসার ও ডিজিটাল শিক্ষার পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রাখেন।[ref]

সাহিত্যকর্ম

তাঁর প্রথম উপন্যাস "নক্ষত্রের অঙ্গর" ২০০৫ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। দ্বিতীয় উপন্যাস "সুবর্ণ শেকড়" প্রকাশিত হয় ২০০৬ সালে পাক্ষিক তারকালোকের ঈদ সংখ্যায়। ICT বিষয়ে বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় বহু পাঠ্যপুস্তকও রচনা করেছেন।

জীবনীটি শেয়ার করুন

এই অনুপ্রেরণামূলক গল্পটি অন্যদের সাথে ছড়িয়ে দিন।

Facebook WhatsApp