Bio.bd Logo
জয়নুল আবেদিন
palette চিত্রশিল্পী

জয়নুল আবেদিন

"জয়নুল আবেদিন ছিলেন বাংলাদেশের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী ও শিল্পশিক্ষার অগ্রদূত। তিনি “শিল্পাচার্য” নামে পরিচিত। বাংলা শিল্পকলার ইতিহাসে তাঁর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের চিত্র অঙ্কনের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি লাভ করেন। তিনি শিল্পকে মানুষের জীবন, দুঃখ-কষ্ট ও সমাজের বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন। তাঁর শিল্পকর্মে বাংলার গ্রামীণ জীবন, প্রকৃতি ও সাধারণ মানুষের সংগ্রামের ছবি ফুটে উঠেছে।"

edit_calendar 10 May, 2026 update আপডেট: 21 Jun, 2026 visibility 63

একনজরে

জন্ম
২৯ ডিসেম্বর ১৯১৪
জাতীয়তা
বাংলাদেশি
নাগরিকত্ব
ব্রিটিশ ভারতীয় (১৯১৪-১৯৪৭) পাকিস্তানি (১৯৪৭-১৯৭১) বাংলাদেশি (১৯৭১-১৯৭৬)
পেশা
শিক্ষকতা
পরিচিতির
চিত্রশিল্পী
মৃত্যু
২৮ মে ১৯৭৬ (বয়স ৬১)
format_list_bulleted সূচিপত্র expand_more

পরিচয়

জয়নুল আবেদিন ছিলেন বাংলাদেশের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী ও শিল্পশিক্ষার অগ্রদূত। তিনি “শিল্পাচার্য” নামে পরিচিত। বাংলা শিল্পকলার ইতিহাসে তাঁর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের চিত্র অঙ্কনের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি লাভ করেন।

তিনি শিল্পকে মানুষের জীবন, দুঃখ-কষ্ট ও সমাজের বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন। তাঁর শিল্পকর্মে বাংলার গ্রামীণ জীবন, প্রকৃতি ও সাধারণ মানুষের সংগ্রামের ছবি ফুটে উঠেছে।

জন্ম ও পারিবারিক পরিচয়

জয়নুল আবেদিন ১৯১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ জেলার কিশোরগঞ্জ এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন তামিজউদ্দিন আহমদ এবং মাতা জাহেদা খাতুন।

ছোটবেলা থেকেই তিনি ছবি আঁকতে ভালোবাসতেন। গ্রামের প্রকৃতি, নদী ও মানুষের জীবন তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। [ref].

শৈশব ও শিক্ষাজীবন

শৈশব থেকেই তাঁর মধ্যে শিল্পচর্চার আগ্রহ দেখা যায়। তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি ছবি আঁকার চর্চা চালিয়ে যান।

পরে তিনি কলকাতা গভর্নমেন্ট আর্ট স্কুলে ভর্তি হন। সেখানে তিনি অত্যন্ত কৃতিত্বের সঙ্গে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন এবং পরবর্তীতে শিক্ষক হিসেবেও কাজ করেন। [ref].

শিল্পী জীবন

জয়নুল আবেদিনের শিল্পকর্মের মূল বিষয় ছিল সাধারণ মানুষের জীবন। তিনি গ্রামীণ মানুষের সুখ-দুঃখ, শ্রম ও সংগ্রামকে অত্যন্ত বাস্তবভাবে তুলে ধরতেন।

১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের সময় তিনি অসংখ্য স্কেচ আঁকেন। এসব চিত্রে ক্ষুধার্ত মানুষের কষ্ট ও অসহায়ত্ব ফুটে ওঠে। এই “দুর্ভিক্ষের চিত্রমালা” তাঁকে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি এনে দেয়।[ref] .

বাংলাদেশের শিল্প আন্দোলনে অবদান

দেশভাগের পর তিনি ঢাকায় চলে আসেন এবং শিল্প শিক্ষার প্রসারে কাজ শুরু করেন।

১৯৪৮ সালে তিনি ঢাকায় চারুকলা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন, যা বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ হিসেবে পরিচিত। এই প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের শিল্প শিক্ষার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।

তিনি নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

উল্লেখযোগ্য শিল্পকর্ম

জয়নুল আবেদিনের উল্লেখযোগ্য শিল্পকর্মগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • দুর্ভিক্ষের চিত্রমালা
  • নবান্ন
  • মনপুরা-৭০
  • গ্রামীণ জীবনের বিভিন্ন চিত্র
  • মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক শিল্পকর্ম

তাঁর ছবিতে বাস্তবতা, মানবতা ও দেশপ্রেমের প্রকাশ দেখা যায়। [ref].

পুরস্কার ও সম্মাননা

বাংলাদেশের শিল্পকলায় অসামান্য অবদানের জন্য তিনি বহু সম্মাননা লাভ করেন। তাঁকে “শিল্পাচার্য” উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

তিনি দেশ-বিদেশে শিল্পী হিসেবে ব্যাপক সম্মান অর্জন করেন।

মৃত্যু

১৯৭৬ সালের ২৮ মে জয়নুল আবেদিন মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যু হলেও তাঁর শিল্পকর্ম আজও মানুষের হৃদয়ে জীবন্ত হয়ে আছে।

ইতিহাসে গুরুত্ব

জয়নুল আবেদিন বাংলাদেশের আধুনিক শিল্প আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। তিনি শিল্পকে সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে যুক্ত করেছেন।

বাংলাদেশের চারুকলা শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশে তাঁর অবদান অসামান্য। তিনি আজও শিল্পীদের জন্য অনুপ্রেরণার প্রতীক।

উপসংহার

জয়নুল আবেদিন ছিলেন মানবতা, শিল্প ও সৃজনশীলতার উজ্জ্বল উদাহরণ। তাঁর শিল্পকর্ম শুধু সৌন্দর্যের প্রকাশ নয়, বরং মানুষের জীবন ও সমাজের বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। বাংলাদেশের শিল্প ইতিহাসে তাঁর নাম চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

জীবনীটি শেয়ার করুন

এই অনুপ্রেরণামূলক গল্পটি অন্যদের সাথে ছড়িয়ে দিন।

Facebook WhatsApp