Bio.bd Logo
জগদীশ চন্দ্র বসু
science বিজ্ঞানী

জগদীশ চন্দ্র বসু

"জগদীশ চন্দ্র বসু ছিলেন জ্ঞান, গবেষণা ও মানবকল্যাণের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। তিনি নিজের মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে বিশ্ববিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ স্থান অর্জন করেছেন। তাঁর জীবন আমাদের বিজ্ঞানমনস্কতা, অধ্যবসায় ও সৃজনশীলতার শিক্ষা দেয়।"

edit_calendar 10 May, 2026 update আপডেট: 21 Jun, 2026 visibility 54

একনজরে

জন্ম
৩০ নভেম্বর ১৮৫৮
জন্মস্থান
বিক্রমপুর,
অভিভাবক
ভগবান চন্দ্র বসু ও বামাসুন্দরী দেবি
জাতীয়তা
ব্রিটিশ ভারতীয়
দাম্পত্য সঙ্গী
অবলা বসু
কর্মক্ষেত্র
পদার্থবিজ্ঞান, জৈবপদার্থবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, উদ্ভিদবিজ্ঞান, প্রত্নতত্ত্ব, বাংলা সাহিত্য, বাংলা কল্পবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়
প্রতিষ্ঠান
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়
পরিচিতির কারণ
ক্রেসকোগ্রাফ উদ্ভিদবিজ্ঞান
মৃত্যু
২৩ নভেম্বর ১৯৩৭
format_list_bulleted সূচিপত্র expand_more

পরিচয়

জগদীশ চন্দ্র বসু ছিলেন উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী, উদ্ভিদবিজ্ঞানী, পদার্থবিজ্ঞানী ও গবেষক। তিনি বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। বিশেষ করে উদ্ভিদের জীবন ও অনুভূতি নিয়ে তাঁর গবেষণা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়। তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে উদ্ভিদেরও প্রাণ ও অনুভূতি রয়েছে।

তিনি ছিলেন আধুনিক বিজ্ঞানচর্চায় বাঙালিদের অন্যতম পথিকৃৎ। তাঁর গবেষণা ও আবিষ্কার উপমহাদেশের বিজ্ঞানকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিত করে তোলে।[ref] .

জন্ম ও পারিবারিক পরিচয়

জগদীশ চন্দ্র বসুর জন্ম ১৮৫৮ সালের ৩০ নভেম্বর বিক্রমপুরে। বর্তমানে এটি বাংলাদেশের মুন্সীগঞ্জ জেলার অন্তর্গত। তাঁর পিতা ছিলেন ভগবানচন্দ্র বসু এবং মাতা ছিলেন বামাসুন্দরী দেবী।

তাঁর পিতা ছিলেন সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছেলেকে দেশীয় সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা দেন। [ref].

শৈশব ও শিক্ষাজীবন

জগদীশ চন্দ্র বসু প্রথমে বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা শুরু করেন। পরে তিনি কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুল ও কলেজে অধ্যয়ন করেন। তিনি পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন।

উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি ইংল্যান্ডে যান। সেখানে তিনি প্রাকৃতিক বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেন। পরবর্তীতে তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিষয়ে শিক্ষা লাভ করেন। [ref].

শিক্ষকতা জীবন

দেশে ফিরে জগদীশ চন্দ্র বসু কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে অধ্যাপনা শুরু করেন। তিনি পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন।

তৎকালীন ব্রিটিশ শাসনামলে ভারতীয় শিক্ষকদের প্রতি বৈষম্য করা হতো। কিন্তু তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন এবং নিজের যোগ্যতার মাধ্যমে সম্মান অর্জন করেন।

বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও আবিষ্কার

জগদীশ চন্দ্র বসু বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থা ও তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ নিয়ে গবেষণা করেন। তিনি এমন কিছু যন্ত্র তৈরি করেছিলেন, যা পরে আধুনিক বেতার প্রযুক্তির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তবে তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিত উদ্ভিদের অনুভূতি নিয়ে গবেষণার জন্য। তিনি “ক্রেসকোগ্রাফ” নামের একটি যন্ত্র আবিষ্কার করেন, যার মাধ্যমে উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়।

তাঁর গবেষণায় দেখা যায়, উদ্ভিদও পরিবেশের বিভিন্ন পরিবর্তনে সাড়া দেয়। [ref].

সাহিত্য ও অন্যান্য অবদান

জগদীশ চন্দ্র বসু শুধু বিজ্ঞানীই ছিলেন না, তিনি সাহিত্যচর্চাও করতেন। তিনি বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানভিত্তিক লেখা লিখতেন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিজ্ঞানচেতনা ছড়িয়ে দিতে কাজ করতেন।

তাঁর বিজ্ঞানচর্চা নতুন প্রজন্মকে গবেষণার প্রতি উৎসাহিত করেছে।[ref] .

পুরস্কার ও সম্মাননা

তাঁর অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি দেশ-বিদেশে বহু সম্মাননা লাভ করেন। ব্রিটিশ সরকার তাঁকে “স্যার” উপাধিতে ভূষিত করে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সংগঠনও তাঁর গবেষণার স্বীকৃতি দেয়।

মৃত্যু

১৯৩৭ সালের ২৩ নভেম্বর জগদীশ চন্দ্র বসু মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যু হলেও বিজ্ঞান জগতে তাঁর অবদান আজও অমর হয়ে আছে। [ref].

ইতিহাসে গুরুত্ব

জগদীশ চন্দ্র বসু ছিলেন উপমহাদেশে আধুনিক বিজ্ঞানচর্চার অন্যতম পথিকৃৎ। তিনি প্রমাণ করেছেন যে বাঙালিরাও বিশ্বমানের বৈজ্ঞানিক গবেষণা করতে সক্ষম।

তাঁর গবেষণা উদ্ভিদবিজ্ঞান ও পদার্থবিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। তিনি আজও বিজ্ঞানী সমাজের জন্য অনুপ্রেরণার প্রতীক। [ref].

উপসংহার

জগদীশ চন্দ্র বসু ছিলেন জ্ঞান, গবেষণা ও মানবকল্যাণের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। তিনি নিজের মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে বিশ্ববিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ স্থান অর্জন করেছেন। তাঁর জীবন আমাদের বিজ্ঞানমনস্কতা, অধ্যবসায় ও সৃজনশীলতার শিক্ষা দেয়।

জীবনীটি শেয়ার করুন

এই অনুপ্রেরণামূলক গল্পটি অন্যদের সাথে ছড়িয়ে দিন।

Facebook WhatsApp